পটুয়াখালীর সমুদ্র সৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন শহর কুয়াকাটায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি খাবার হোটেলসহ মোট ৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হোটেল সি কুইন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য জহিরুর ইসলাম জানান, ‘বিসমিল্লাহ’ নামের একটি খাবার হোটেলের পেছন দিক থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও দুটি খাবার হোটেল, একটি মুদি দোকান ও একটি চায়ের দোকানসহ মোট ৮টি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। টিনশেড ঘর হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় । মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিষ্ঠানগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করা হলে কলাপাড়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু কলাপাড়া থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই অধিকাংশ দোকান পুড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা খালেক হোসেন বলেন, ‘সকালে হঠাৎ চিৎকার শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে দেখি বাজারে আগুন জ্বলছে। সবাই মিলে চেষ্টা করেছি, কিন্তু ফায়ার সার্ভিস আসতে দেরি হওয়ায় বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। কুয়াকাটায় যদি একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকতো, তাহলে এত ক্ষতি হতো না।‘
তিন কন্যা হোটেল-এর মালিক সালমা জানান, তার হোটেলে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মালামাল ছিল। সব আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। সামনে ঈদ, কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন বুঝতে পারছেন না তিনি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হোসেন জানান, সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় এখনো স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ লক্ষ করা গেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা খুব দ্রুত কুয়াকাটায় স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হবে।