হাসপাতালের বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর মামলায় তার স্বামী সাফি উল্লাহ ওরফে মহব্বতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
এর আগে, গত ১২ জুন দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ঝিলিকের। এই ঘটনায় তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে ১৩ জুন ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলায় অভিনেত্রীর স্বামী সাফি উল্লাহকে হত ১৩ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড শেষে গত ১৪ জুন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়, সাফি উল্লাহর তীব্র পেটে ব্যথা হলে ঝিলিক ও তার ভাই মোজাম্মেল ১০ জুন ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতে তাকে ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাফি উল্লাহর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেয়।
তবে ইবনে সিনা হাসপাতালে সিট/কেবিন খালি না থাকায় ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার ৮১৩ নং কেবিনে ভর্তি করে রাখা হয়। তাকে দেখাশোনার জন্য ঝিলিক হাসপাতালে অবস্থান করে।আরও বলা হয়, সাফি উল্লাহকে দেখতে শুক্রবার সকালে তার বোন, ভগ্নিপতি ও প্রথম পক্ষের ছেলে হাসপাতালে আসে। সুস্থ হওয়ায় সকাল ১০ টার দিকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। বিষয়টি ঝিলিক তার বোন মোজাম্মেল জানায় এবং হাসপাতালে বিলের জন্য ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। দুপুর সোয়া ১ টার দিকে ঝিলিকের সাথে তার ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভিডিও কলে কথা হয়। এর ঘন্টাখানেক পর সাফি উল্লাহ ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে জানায়, ঝিলিক কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে গিয়ে মারা গেছে।