উৎসবমুখর পরিবেশ আর বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে উদযাপিত হলো ‘বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩’। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসজুড়ে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা সৃষ্টি হয়েছিলো এই উৎসবকে ঘিরে।
বাঙালির চিরায়ত লোকজ সংস্কৃতি আর সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সাজানো হয়েছিল রঙীন আল্পনা ও ঐতিহ্যবাহী সব সাজসজ্জায়। পুরো ক্যাম্পাস যেন রূপ নিয়েছিল একটা মেলায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ এবং ক্লাবের স্টল যোগ করেছিলো ভিন্ন মাত্রা। স্টলগুলোয় অতিথিদের জন্য ছিল দেশীয় খাবারের বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা।পুরো আয়োজনই উৎসবের আমেজ নিয়ে উপস্থিত সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয় অপার আনন্দ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ। উৎসবে ঐতিহ্যবাহী নাগরদোলা, বায়োস্কোপ, ঘুড়ি উৎসব এবং বেলুন শুটিংয়ের মতো আয়োজনগুলো আগতদেরমাঝে আনন্দের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ নৃত্য ও সঙ্গীত অনুষ্ঠান উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিল্পচর্চার উৎকর্ষতাকে ফুটিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইয়াসমীন আরা লেখা। তিনি তাঁর বক্তব্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পারভীন আক্তার জেমী, রেজিস্ট্রার কাজী মহিউদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী। তাঁদের সাদর উপস্থিতি ও অবিরাম প্রশাসনিক সহযোগিতা আয়োজনটিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।
এবারের উৎসবের একটি বিশেষ দিক ছিল তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ফাতিহা আয়াত-এর একটি প্রাঞ্জল ও সময়োপযোগী বক্তব্য। তিনি বৈশ্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যসমূহের সঙ্গে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা চমৎকারভাবে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে বিশিষ্ট শিল্পী ওয়াহিদা তামান্না হোসেন ও তাঁর দলের মনমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে, যা দর্শকদের দারুণ ভাবে মাতিয়ে তোলে, রেখে যায় আনন্দের রেশ। তার কন্ঠে বৈশাখের আগমনী গান এসো হে বৈশাখ দিয়েই শেষ হয় উত্তরা ইউনিভার্সিটির বৈশাখী উৎসব।