রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী বোগদাদীর মাজারেহামলার মামলায় তিন আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন— মো. আজম, শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল এবং আরমান দেওয়ান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলা হয়। ওরশ চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে মারধর শুরু করে।
এ ঘটনায় আহত রেসমি বেগম গত শনিবার মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শাহ আলী থানার উত্তর বিশিল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিন আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার ইন্সপেক্টর তারিকুর রহমান।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. কামাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করে বলেন,আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত না। অযথা হয়রানী করার জন্য মিথ্যা, বানোয়াট মামলা সৃষ্টি করে তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার অভিযোগ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে মাজার জিয়ারত ও মানতের সময় আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে ঢুকে জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। তার অভিযোগ, ‘জিয়ারত ও মানতের কার্যক্রম’ চলাকালে অভিযুক্তরাসহ নাম না জানা ১০০-১৫০ জন জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা ‘পূর্ব পরিকল্পিতভাবে’ হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ‘আল্লাহু আকবার স্লোগান দিয়ে’ প্রধান গেট দিয়ে মাজারে প্রবেশ করে।
মামলায় অভিযোগে আরো বলা হয়, এ সময় ‘জিয়ারতকারী এবং মানতকারীদের’ উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে জখম করে এবং মাজারের সিন্নি গাছের গোড়ায় থাকা লাল কাপড় টানা হেচড়া করে ছিড়ে ফেলে, মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটও ভাংচুর করে। যেটিকে ‘চরমভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’।
বাদী রেশমী মামলায় বলেন, ঘটনা দেখে আসামিদের বাধা দিতে গেলে তারা ‘ক্ষিপ্ত হয়ে’এলোপাথারিভাবে মারপিট করে জখম করে।এসময় তার কাপড়চোপড় ‘টানা-হেচড়া করে’ যৌন নির্যাতনও করে । মারপিটের একপর্যায়ে নাম না জানা একজন মাজারের মানতের খিচুরি রান্না করার চুলা ও পাতিল ভাংচুর করে অনুমান ৩০ হাজার টাকা ক্ষতি করেছেন। একইসঙ্গে বাদীর কাছে থাকা নগদ ৬ হাজার টাকাসহ জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে আনুমানিক ৯০ হাজার টাকা লুট করে। হামলার একপর্যায়ে মাজারের উপস্থিত জিয়ারতকারী, মানতকারী এবং ভক্তরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে আসামিরা ‘ভয়ভীতি-হুমকি প্রদর্শন করে’ চলে যায়।