পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ে ছাড়িয়েছেন বিরাট কোহলি ও ক্রিস গেইলকে। এরপর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খেলেছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি, যার সুবাদে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে বড় জয় পায় পেশোয়ার জালমি।
মাত্র ৩৩৮ ইনিংসে ১২ হাজার রান পূর্ণ করে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম এই মাইলফলক স্পর্শ করেন বাবর। এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল ক্রিস গেইলের (৩৪৪ ইনিংস) এবং বিরাট কোহলির (৩৬০ ইনিংস) দখলে।
এই রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় বাবরের স্মরণীয় এক রাত। মাইলফলক ছোঁয়ার পরই তিনি খেলেন আত্মবিশ্বাসী এক শতকের ইনিংস, যা দীর্ঘদিন পর তার ফর্মে ফেরার শক্ত বার্তা দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত ১২ হাজার রানে পৌঁছানোর তালিকায় শীর্ষে ছিলেন কোহলি ও গেইল। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তারা এই ফরম্যাটে মানদণ্ড হয়ে উঠেছিলেন। সেই তালিকায় এবার নতুন করে নিজের নাম উজ্জ্বলভাবে লিখলেন বাবর।
শুধু রানেই নয়, পার্টনারশিপ গড়ার ক্ষেত্রেও কোহলির পাশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে ১৩৫ রানের জুটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বাবর। মেন্ডিস ৪৪ বলে করেন ৮৩ রান।
এই জুটির মাধ্যমে টি-টোয়েন্টিতে বাবরের শতরানের পার্টনারশিপ সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭টি, যা কোহলির সমান। ফলে এই দুই ব্যাটারের মধ্যে তুলনা আরও জোরালো হয়েছে।
ম্যাচে ৫২ বলে অপরাজিত ১০০ রান করেন বাবর আজম। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও চারটি ছক্কা। এই ইনিংসের মাধ্যমে প্রায় ৭৮৩ দিনের শতকের খরা কাটান তিনি। এর আগে তার শেষ শতক ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
তার এই ইনিংসে ছিল আরও একটি অনন্য রেকর্ড—পুরো ইনিংসে তিনি খেলেছেন মাত্র একটি ডট বল, যা ৫০টির বেশি বল খেলে কোনো ব্যাটারের ক্ষেত্রে প্রথম ঘটনা।
বাবরের এই শতক ছিল তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১২তম শতক। এতে তিনি সর্বোচ্চ শতকের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন, যেখানে শীর্ষে আছেন ক্রিস গেইল ২২টি শতক নিয়ে।
তার অনবদ্য ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে পেশোয়ার জালমি, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।