সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, কমছে উৎপাদন

প্রতিবেদকের নাম

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নীলফামারীর জনজীবন। পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকোর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ নির্ভর কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিতে সেচ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।

সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জেলার পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলার ছয়টি থানায় আবেদনও করা হয়েছে।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নীলফামারীর জনজীবনে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসন না হলে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

বিদ্যুৎনির্ভর কারখানাগুলোতে লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও এতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।

জেলার অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি কৃষি। সেচনির্ভর বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ পাম্প চালাতে সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা। নির্ধারিত সময়ে জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর, সদর সহ কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম কৃষকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

দিনের তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ। বাসাবাড়িতে ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো যাচ্ছে না। রাতের বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ঘুমও ব্যাহত হচ্ছে।

নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মনোয়ার মোর্শেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়াই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। জাতীয় পর্যায়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে।’

নেসকোনির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ কম, তাই সাময়িক একটু সমস্যা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা