মাদারীপুরের শিবচরে বাড়িতে রান্না করা খাবার খেয়ে একই পরিবারের ১১ সদস্য রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থদের মধ্যে ছয়জনকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাদের চারজনকে আজ রোববার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া অসুস্থতার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা।শুক্রবার সকালে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের মগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়িতে রান্না শেষে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাবার খেতে বসেন। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মধ্যে পড়ে যান। কারও নড়াচড়ার শক্তি ছিল না, আবার কেউ ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না।
ঘটনার সময় পরিবারের কর্তা নয়ন শেখ (৫৫) কাজের কারণে ঢাকায় ছিলেন। বাড়িতে ফোন করে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারও সাড়া না পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে বলেন।
ঐ বিকেল ৪টার দিকে এক প্রতিবেশী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে নয়ন শেখও ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। রাতে বাড়িতে থাকা আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরও হাসপাতালে নেওয়া হয়। এভাবে একই পরিবারের মোট ১১ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন— নয়ন শেখের মেয়ে মনিকা আক্তার (২৭), তার স্বামী শহিদুল শিকদার, সাগরিকা আক্তার (২৫), ইতি আক্তার (২০), সুমাইয়া আক্তার (২২), তার স্বামী আসাদ মোড়ল, নয়ন শেখের ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান (১৪) ও আমেনা বেগম (৫০)। পরিবারের আরও দুই সদস্যের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অসুস্থ সাগরিকা আক্তার বলেন, সকালে রান্না করে পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেতে বসেছিলেন। খাবার খাওয়ার একপর্যায়ে তারা কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শরীরে এমন দুর্বলতা দেখা দেয় যে নড়াচড়া করা বা ঠিকমতো কথা বলাও সম্ভব হচ্ছিল না।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে তাঁর বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ঘরে থাকা সব খাবার ফেলে দেওয়া হয়। রাতে তার ফুপু নতুন করে রান্না করেন। কিন্তু ওই খাবার খাওয়ার পর তার বাবা ও ফুপুও একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মনিকা আক্তারের সন্দেহ, খাবার বা পানিতে কেউ কিছু মিশিয়ে দিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াসিফ বলেন, অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিকভাবে খাবারে বিষক্রিয়ার বিষয়টি সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই অসুস্থতার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পর পরিবারের রান্না করা খাবার ও পানির বিষয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।