বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ফেসবুক-টিকটক ব্যবহার না করার শর্তে শিশুকে হেফাজতে পেল মা

প্রতিবেদকের নাম

ফেসবুক ও টিকটক ব্যবহার না করার শর্তে সাত মাস বয়সী সন্তানকে হেফাজতে পেল ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মা। আজ মঙ্গলবার ঢাকার লিগ্যাল এইড অফিসার সায়েম খান এ আদেশ দিয়েছেন। আর শিশুর স্থায়ী হেফাজতের বিষয়ে বাবার করা পারিবারিক আদালতে তা নির্ধারন করবেন বলে আদেশে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বিচারক জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আপাতত সাত মাস বয়সী শিশুটি তার মায়ের সঙ্গেই থাকবে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুনানির সময় কিশোরী মাকে ফেসবুক ও টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উভয়পক্ষকেই ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব নিয়ে বাবার করা আবেদন বর্তমানে পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেই আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই হবে।

পর্যবেক্ষণের সায়েম খান বলেন,‘সামাজিক অবক্ষয় চরম পর্যায়ে চলে এসেছে, এটা বলতেই হয়। কারণ বাচ্চারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে আসক্ত হচ্ছেন, মা-বাবা বিষয়টি সঠিকভাবে নজর না রাখার কারণে এ ধরণের ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের সবার দেখা উচিত, আমাদের সন্তানরা সোশ্যাল মিডিয়াতে কি করছে। তারা বায়না করলে আমরা ফোন তুলে দিচ্ছি। পরবর্তীতে সে কি করছে, কাদের সাথে মিশছে কোনো ধরনের অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে কি না আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে। এ সমস্ত কারণে কিন্তু এ ঘটনা ঘটেছে। এটা চাইলেই কিন্তু আগে রোধ করা যেত।’

আজ শুনানির আগে ওই বাচ্চার মা ও বাবাকে ডেকে একান্তে কথা বলেন বিচারক। তিনি বাচ্চার মায়ের উদ্দেশে বলেন,‘বাচ্চাকে নিয়ে ফেসবুকে টিকটকা করা তোমার কি ঠিক হয়েছে? এটা মানুষ নেগেটিভলি নিয়েছে।’ আর বাবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাচ্চার মাকে নিয়ে মিডিয়াতে কেন নেগেটিভ বিষয় উপস্থাপন করলে? এটা কিন্তু সাইবার সুরক্ষা আইনে পড়ে।’

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম: দুই বছর আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এ কিশোরী ও শাকিল ওরফে শাকিব মিয়া। বিয়ের সময় ওই কিশোরীর বয়স ছিল ১১ বছর, আর শাকিল ওরফে শাকিব মিয়া ছিলেন ২০ বছরের তরুণ। এর মধ্যে তাদের কোলজুড়ে আসে এক পুত্র সন্তান। আড়াই মাস আগে শিশুটিকে রেখে মাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগ এনে গত ১ জুলাই ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইডে অফিসে অভিযোগ দেওয়া হয় শাকিল ও তার মা আছমার বিরুদ্ধে।

বাচ্চাকে উদ্ধারের আরজি জানান মা।অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের ১৬ জুলাই লিগ্যাল এইড অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেদিন তারা হাজির হননি। এজন্য লিগ্যাল এইড অফিসার সায়েম খান শিশুটিকে উদ্ধার করতে চকবাজার থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী গত ২৭ জুলাই শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। গত ২৮ জুলাই পরে লিগ্যাল এইড অফিসার সায়েম খান শিশুটি তার মায়ের কাছে থাকবে মর্মে জানান। পরবর্তী শুনানির দিন রাখেন মঙ্গলবার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা