জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর ব্যক্তিগত জীবনে ‘ঠোঁটকাটা’ স্বভাবের। সমকালীন নানা বিষয় নিয়েই কড়া কথা বলতেও পিছপা হন না। রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সমর্থক তিনি। তবুও নিজ দলের কর্মী কিংবা কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায়ই তাকে আলোচনা ও সমালোচনা করতে দেখা যায়। আর গায়ক তার কথাগুলো প্রকাশ করেন সামাজিক মাধ্যমে।
গতকাল সোমবার আসিফ আকবর তার ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছেন। লিখেছেন, ‘স্কুলের টিফিন সরানোর অপরাধে এক শিক্ষককে পাকড়াও এবং হেনস্তা। পত্রিকা আর সোশ্যাল মিডিয়ায় অহরহ ছোটখাটো চুরি আর অন্যায়ের খবর দেখি খুব ফলাও করে প্রচার করে। নড়ে ওঠে সো কলড নেটিজেন, পাবলিক রিঅ্যাকশনও খুব গরম। সামান্য খাবার চুরির অপরাধে এদেশে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় মানুষ কিংবা বোবা প্রাণী।’
রাজনীতিকে হাতিয়ার বানিয়ে দেশ লুটপাটের কথাও স্মরণ করেছেন আসিফ আকবর। তার ভাষায়, ‘ওইদিকে লুটেরা গোষ্ঠী লুটেই যাচ্ছে দেশটাকে। রাজনীতিকে হাতিয়ার বানিয়ে দেশটাকে খোকলা করে এরাই আবার হয়ে যায় জনপ্রতিনিধি। সাধারণ জনতাই তাদের নেতা বানায়, অভিভাবক বানায়, প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে পিছে পিছে ঘুরে আর “আমার ভাই, তোমার ভাই” বলে চিল্লায়। তারাই আন্দোলন সংগ্রাম করে ত্যাগী মজলুম হয়, পরে তারাই আবার নিজের তৈরি ফ্রাঙ্কেনস্টাইনকে নেতার পদ ফিরিয়ে দিয়ে প্যাদানি খায়। এই সার্কেলেই চলছে বাংলাদেশের রাজনীতি আর সমাজ ব্যবস্থা। উচ্চশিক্ষিত চর্বিওয়ালারা জানে, চুরির সব অভিনব কৌশল, কাঙ্গালের দল সেই কৌশলের ফাঁদে পড়ে হয় লোভী, তারাই সেই চোরকে আবার প্রাতিষ্ঠানিক অবয়ব দেয়।’
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কড়া সমালোচনা করতে গিয়ে ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ আকবর বলেন, ‘১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পায় প্রথম সবাক বাংলা সিনেমা “মুখ ও মুখোশ”। ২০২৪, ৩ আগস্ট মুক্তি পায় তীর্থস্থান সফররত গুপ্ত বিহারী ফ্যাসিস্ট অভিনীত প্রথম অবাক সিনেমা- গণভবন। গতকাল “মুখ ও মুখোশ” সিনেমার ৭০ বছর পূর্ণ হলো। কয়দিন আগে দেখলাম সাফ ফুটবলের বসও হলেন সেই ফ্যাসিস্টেরই রেপ্লিকা, নির্বাচিত বাফুফে আর অথর্ব ক্রীড়া মন্ত্রণালয় স্পিকটি নট, খুব হিসেব কষে চলছে নতুন তাদের নির্বাক সিনেমার শুটিং। এগুলো সাধারণ কোনো ঘটনা নয়, একই সূত্রে গাঁথা পুরোনো ডিজাইন।’
বাংলাদেশের শত্রুর প্রয়োজন নেই, নিজেদের বিনাশে নিজেরাই যথষ্ট বলে মনে করেন আসিফ আকবর। তার ভাষায়, ‘এই দেশের মানুষের শত্রুর প্রয়োজন নেই, নিজেদের বিনাশে নিজেরাই যথেষ্ট। বিষাক্ত কালচারাল ফ্যাসিস্ট আর তেলের মতো ভাসতে থাকা কিছু দালাল মিডিয়া দেশের অভ্যন্তরের ফ্রন্টলাইন শত্রু। এই সত্যটা বুঝলে ভালো, না বুঝলে তো পরিস্থিতি একইরকম আছে, সমস্যার কিছু নেই। প্রাণ দেবে তারুণ্য, ভুগবে তার পরিবার, এনজয় করবে এলিট শ্রেণি আর হাততালি দিবে কাঙ্গালের দল, এটাই নিয়ম।’