সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দিয়েছেন।
গত ৪ অগাস্ট রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেম মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির দিন ৬ আগস্টঠিক করেন। ওইদিন আদালত ৭ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার জগলুল পাশাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয় ।
আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জামিন চেয়ে আবেদন করে রোববার শুনানি করতে চান। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রবিবার জামিন শুনানির দিন রেখেছে আদালত।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামিসহ অজ্ঞাত ২৫০/৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্র-সস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে অবস্থান করে সারাদিন থাকে। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করে। আসামিরা রাস্তার ওপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করে রাস্তা বন্ধ করে। খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগ না দিতে পারেন সে জন্য রাস্তার উপর ত্রাস সৃষ্টি করে।কর্মসূচি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেয়। বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক রাস্তায় রেখে ব্যারিকেড দেয়। খালেদা জিয়া বার বার চেষ্টা করা সত্ত্বেও আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলাটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন। এই মামলা ছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জগলুল পাশার বিরুদ্ধে ‘জাল নথি প্রস্তুত ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার’ অভিযোগ রয়েছে।